Breaking News
কন্যাশ্রী প্রকল্প সম্পর্কে খুঁটিনাটি সমস্ত তথ্য

কন্যাশ্রী প্রকল্প কি ও ২০২২ সালে কিভাবে আবেদন করতে হবে? । কন্যাশ্রী প্রকল্প সম্পর্কে খুঁটিনাটি সমস্ত তথ্য জানুন

কন্যাশ্রী প্রকল্প (Kanyasgree Prokalpa): পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহুমুখী জনহিতকর প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম একটি প্রকল্প হল কন্যাশ্রী। কন্যাশ্রী এখন বিশ্বশ্রী। তৃনমূল সূপ্রিমো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ৮ই মার্চ ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হয়।

কন্যাশ্রী প্রকল্প উদ্দেশ্য কি?

এই জনদরদী প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল পরিবারের মেয়েদের বিবাহ বিলম্বিত করা, দীর্ঘ সময় যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা। মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক বা কারিগরি সমতুল্য শিক্ষা গ্রহনের জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করা। যার ফলে তাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে আরো ভালো অবস্থান তৈরি হয়। এছাড়া অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার ফলে প্রাথমিক গর্ভধারণের ঝুঁকি, মা ও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি এবং অপুষ্টিসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতার পরিস্থিতি কে হ্রাস করা। সরকারের এই অসাধারণ প্রকল্পটির মাধ্যমে মেয়েরা শিক্ষা এবং উন্নত সামাজিক ও মানসিক বিকাশের সাথে সাথে বিয়ের পরেও কিছু পরিমাণে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেয়ে থাকে। আশা করা যায় যে বাল্যবিবাহের মত কুপ্রথা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হবে এবং অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়েপরা পরিবারের মেয়েরা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থ সামাজিক সমতার অধিকার অর্জন করবে।

কন্যাশ্রী প্রকল্প কি ও আবেদন কিভাবে করতে হবে


কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা কত পাওয়া যায় ও যোগ্য হওয়ার জন্য কি শর্ত পূরণ করতে হবে?

এই নারীহিতকর প্রকল্পটির মাধ্যমে দু ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় প্রথমটি K1 দ্বিতীয় K2 । K1প্রকল্পটি ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য অথবা অষ্টম শ্রেণি হতে দ্বাদশ শ্রেণি মেয়েদের মাসিক ৭৫০ টাকা বৃত্তি আর K2 প্রকল্প টি হল এককালীন অনুদান ২৫০০০ টাকা যে সকল মেয়েরা ১৮ বছর অতিক্রম করেছেন এবং সে একাডেমিক বা পেশাগত সাধনায় নিযুক্ত অবিবাহিত তারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। ২০২১-২২ সালের কন্যাশ্রী প্রকল্পের যোগদান করতে হলে কন্যার জন্মের বয়স হতে হবে K1 -এর ক্ষেত্রে ১লা এপ্রিল ২০০৪ থেকে ৩১শে মার্চ ২০০৯ আর K2 ক্ষেত্রে ১লা এপ্রিল ২০০৩ থেকে ৩১শে মার্চ ২০০৪।

কন্যাশ্রী প্রকল্প টি কাহাদের জন্য প্রযোজ্য?

কন্যাশ্রী সব মেয়েদের জন্য নয় এই প্রকল্পের বার্ষিক বৃত্তি এবং এককালীন অনুদান শুধুমাত্র সেই সব মেয়েদের জন্য যারাপশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নথিভূক্ত এবং নিয়মিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠরত অবশ্যই অবিবাহিত। পরিবারের আয় প্রতি বছরে ১২০০০০ (এক লাখ কুড়ি হাজার) টাকার বেশি নয় , তবে কোন মেয়ে যদি হোমে বসবাস করে বা পিতা মাতা উভয়েই মৃত, শারীরিকভাবে ৪০% এর বেশী অক্ষমতা সে ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের আয় বছরে এক লক্ষ কোটি টাকা বেশি হলেও তারা কন্যাশ্রীর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের আবেদন পত্র পাওয়া যায় কোথায়?


পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয়ে আবেদনপত্র পাওয়া যায়। নীল ও সবুজ রঙ্গের ছাপানো এবং ক্রমিক সংখ্যাযুক্ত আবেদনপত্র উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিকট থেকে পাওয়া যায়। এছাড়াও, সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কলকাতা পুরসভা, সমস্ত মহকুমা শাসকের অফিস এবং সব সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের অফিস থেকেও আবেদনপত্র পাওয়া যায়।


একটা মেয়ে কিভাবে কন্যাশ্রী প্রকল্প-এর জন্য আবেদন করবে?


রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থেকে কন্যাশ্রী প্রকল্পে বার্ষিক অথবা এককালীন আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে।
কন্যাশ্রী প্রকল্পের আবেদন করার জন্য প্রথমে আবেদনকারী অবিবাহিত কন্যার নিজ নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে যেটি নতুন অথবা পুরাতন ও জিরো ব্যালেন্স ব্যাংক একাউন্ট হতে পারে। কন্যাশ্রীর সুবিধাগুলো রাজ্য সরকার সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রদান করে। আবেদনকারীর যদি ব্যাংক একাউন্ট না থাকে তাহলে আবেদনকারী স্কুল বা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সহায়তায় একটি তৎকাল জিরো ব্যালেন্স ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনার নামের বানান ব্যাংক একাউন্ট এবং আবেদনপত্রের মধ্যে যেন একই থাকে সেদিকে সতর্ক থাকুন।

বার্ষিক স্কলারশিপের আবেদনপত্র K1 এটি হালকা সবুজ কাগজে ছাপানো আর এককালীন অনুদানের আবেদন পত্র K2 এটি হাল্কা নীল রঙের কাগজে ছাপানো।

কি কি বিষয় করণীয়?


আবেদনপত্রের সমস্ত বিবরণ যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে এ ব্যাপারে আপনি আপনার স্কুল বা প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকের সাহায্য নিতে পারেন। আবেদনপত্রটি তে বেশ কয়েকজনের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে সেগুলো যথাযথভাবে করিয়ে নিন।আবেদন পত্রটি পূরণ করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। আবেদনপত্রের আপনার নামের বানানটি ও ব্যাংক একাউন্টের নামের বানানটি একই হতে হবে। মোবাইল নম্বরটি সঠিকভাবে লিখুন কারণ আপনার ফর্ম এর লেখা আপনার মোবাইল নম্বরে আবেদনের স্থিতি সম্পর্কে আপডেট পাবেন। আবেদনপত্রের এক, দুই এবং তিন নম্বর পৃষ্ঠায় আবেদনকারীর স্বাক্ষর দিতে হবে। ব্যাংক একাউন্টের নম্বরটি সঠিক ভাবে লিখতে হবে। আবেদনের স্থিতি জানার জন্য একনোলেজমেন্ট স্লস্লিপটি যত্ন করে রাখুন।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের আবেদন করার জন্য কি কি নথিপত্র প্রয়োজন?


আবেদন করার সময় যে সমস্ত প্রমাণপত্র গুলি আপনার প্রয়োজন পড়বে সেগুলো হলো:
নিম্নলিখিত ফটোকপি গুলো জমা দিতে হবে-

  • আবেদনকারীর জন্মের প্রমাণপত্র
  • আবেদনকারী যে অবিবাহিতা সেটি প্রমাণ করার জন্য আপনার পিতা-মাতার যেকোনো একজনের স্বাক্ষর করা বিবৃতি পত্র বা প্রমাণপত্র
  • ইনকাম সার্টিফিকেট যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে আপনার পরিবারের আয় বছরে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকার বেশি নয়


এখানে একটি বিষয় জানা প্রয়োজন যে আবেদনকারী যদি শারীরিক প্রতিবন্ধী বা পিতা মাতা উভয়েই মৃত ও কোন হোম এর বাসিন্দা হয় তবে আয় বিবরণীর প্রয়োজন নেই । পরিবর্তে আবেদনকারীকে প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট এর প্রতিলিপি জমা করতে হবে। আবেদনকারীর যদি পিতা মাতা উভয়কেই হারিয়ে থাকেন তবে অনুগ্রহ করে আইনি অভিভাবকের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি জমা দিতে হবে। এছাড়া পিতা-মাতার ডেট সার্টিফিকেটের প্রতিলিপি জমা দিতে হবে।
আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে সঙ্গে সমস্ত ডকুমেন্ট এর জেরক্স বা ফটোকপি প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এরপর তিনি এতে স্বাক্ষর করে একটি অফিশিয়াল স্ট্যাম্প লাগাবেন এবং অ্যাকনোলেজেমেন্ট স্লিপ টি আবেদনকারীর হাতে তুলে দেবেন। এই অ্যাকনোলেজেমেন্ট স্লিপটি সাবধানে রাখুন এতে আপনার ২০ সংখ্যার ফরম নাম্বার, নাম এবং অন্যান্য বিষয় রয়েছে এবং এটি প্রমাণ করে যে আপনি কন্যাশ্রী প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন।


কন্যাশ্রী প্রকল্পে আবেদনকারী কখন টাকা পাবে?


আবেদনকারী বিদ্যালয় মহাবিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ একটি সম্পূর্ণ আবেদন হস্তান্তর করলে আবেদনটি কন্যাশ্রী পোর্টালে wbkanyashree.gov.in আপলোড করা হয়।আবেদনপত্রটি আপলোড করা হয়ে গেলে অ্যাপ্লিকেশনটি বেশ কয়টি পর্যায় এর মধ্যে যায় আবেদনকারীর পোর্টালে আবেদনপত্রটি ট্র্যাক করতে পারে। ট্র্যাক করার জন্য অবশ্যই কুড়ি সংখ্যার ফ্রম নম্বরটি প্রয়োজন আপনি আপনার প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্রটি হস্তান্তর করার সময় আবেদনকারীকে দেওয়া অ্যাকনোলেজেমেন্ট স্লিপে এই নম্বরটি পাবেন। আবেদন মঞ্জুর হয়ে গেলে টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে। ব্যাংক আপনাদের রেজিস্টার মোবাইল নাম্বারে একটা এসএমএস পাঠাবে।

কন্যাশ্রী প্রকল্পে আবেদনকারীকে কি প্রতি বছর বার্ষিক বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে?

না, আবেদনকারীকে প্রত্যক বছর বার্ষিক বৃত্তির জন্য আবেদন করতে হবে না। একবার বার্ষিক বৃত্তি প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত হয়ে গেলে, পরের বছরগুলিতে (বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত) প্রধান শিক্ষক আবেদনকারীর বৃত্তি পুনর্নবীকরণ করবেন। পুনর্নবীকরণের সময়, আবেদনকারীকে অবশ্য প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি লিখিত বিবৃতি দিতে হবে যাতে ঘোষণা করা হয় যে আবেদনকারী এখনও অবিবাহিত।
এরপর আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছর হয়ে গেলে এবং এককালীন অনুদানের জন্য যোগ্য হবেন তবে প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারীকে এককালীন অনুদানের আবেদনপত্রটি পূরণ করতে হবে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় শংসাপত্র এবং স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে এবং আবেদনকারী বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন সেখানে জমা দিতে হবে।

*এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যান্য প্রকল্প গুলির নাম ও বিস্তারিত তথ্য জানুন- West Bengal Government Schemes List 2021

Share This:
Advertisement

Check Also

গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘরের লিস্ট সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন-উত্তর

আবাস প্লাস যোজনায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘরের লিস্ট সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন-উত্তর । Pradhan Mantri Awas Yojana Gramin List AtoZ Information

Pradhan Mantri Awas Yojana Gramin (প্রধান মন্ত্রী গ্রামীন আবাস যোজনা) সংক্ষেপে পিএমএওয়াই(জি) PMAY(G) বা আবাস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *