Breaking News
বেস্ট লাইফ টার্ম ইন্সুরেন্স

বেস্ট টার্ম ইন্সুরেন্স কোম্পানী ২০২৩। মেয়াদি বিমা বা টার্ম ইন্সুরেন্স নেবার আগে কি কি প্যারামিটার চেক করবেন

বন্ধুরা, বেস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স পলিসি ২০২৩ এর কোনটি এবং কোন সংস্থার কাছ থেকে এই পলিসি নিলে আপনি লাভবান হবেন আর কি কি তথ্য সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন। সেগুলি জানার আগে আমাদের জানা প্রয়োজন যে এই লাইফ ইন্সুরেন্স পলিসি প্ল্যানগুলো কয় প্রকারের। বিভিন্ন কম্পানীর যেসকল পলিসি প্ল্যানগুলি রয়েছে সেগুলো সাধারণত তিন ধরনের ।

প্রথমটি- এনড্রুমেন্ট প্ল্যান

দ্বিতীয়টি- টার্ম প্ল্যান

তৃতীয়টি- ইউলিপ প্ল্যান। 

প্রথমে আসি এনড্রুমেন্ট প্ল্যান কি । এটা হল গ্যারান্টি রিটার্ন বা মানি ব্যাক প্ল্যান। লাইভ কভার ও ইনভেস্টমেন্ট এই দুই সুবিধাই এই এনড্রুমেন্ট প্ল্যানগুলিতে রয়েছে। কিছুটা অংশ লাইভ কভারে যায় এবং কিছুটা অংশ ইনভেস্টমেন্টে যায়। 

এই প্ল্যানের অসুবিধাটি হলো কোম্পানি আপনাকে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের জন্য প্ল্যানটি দিয়ে থাকে। ধরুন আপনি ২০ বছর বয়সে এই এনড্রুমেন্ট প্ল্যান নিলেন এবং সেটিই শেষ হবে ৫০ বছর বয়সে। কিন্তু পঞ্চাশ বছরের পরেই তো ঝুঁকি শুরু হয়। তার মানে এনড্রুমেন্ট প্ল্যানের বেশিরভাগ উদ্দেশ্যই লাইক কভার দেওয়ার থেকে ইনভেস্ট করার ব্যাপারে। সেজন্য পরিবারে আপনি যদি একা আয়ের উৎস হন তবে আপনার অবর্তমানে পরিবারের কথা চিন্তা করে লাইভের কভারের জন্য টার্ম পলিসি নেওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। যদি আপনি অ্যান্ড্রুমেন্ট পলিসি নেন তাহলে না পাবেন বড় অংকের লাইফ কভার না খুব ভালো রিটার্নস। 

বন্ধুরা, এই পোস্টটিতে আমি ভারতের টার্ম ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলি তুলনা করবো বিভিন্ন প্যারামিটারে। এবং এসব প্যারামিটারগুলি বিশ্লেষণ করে এমন কোম্পানিগুলোকে বেছে নিতে সাহায্য করবো যেগুলো আমাদের লাইফ ইন্সুরেন্স করার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়। কোম্পানিগুলোর সমস্ত প্যারামিটার বিশ্লেষণের পর এই পোস্টের শেষে এমনি দু-তিনটা কোম্পানি বেরিয়ে আসবে যেগুলোতে আপনার ইচ্ছাতে টার্ম প্ল্যানে ইনভেস্ট করে আপনার পরিবার সুরক্ষিত হতে পারেন।

পাঁচটি প্যারামিটারে সমস্ত লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোকে তুলনা করা হলো। চলুন দেখা যাক এই পাঁচটি প্যারামেটারে কোন কোন টার্ম ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলি বেস্ট পারফরমেন্স দিচ্ছে। বেস্ট রেজাল্ট পাওয়ার পর আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত করার জন্য সেই কোম্পানিগুলো থেকে টার্ম ইন্সুরেন্স প্ল্যান নিতে পারেন। কেননা লাইফ ইন্সুরেন্স এমন একটা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যে হঠাৎ আপনার সঙ্গে কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায় সে ক্ষেত্রে আপনার পরিবার এই ইন্সুরেন্স এর প্রাপ্য টাকা দিয়ে যাবতীয় খরচা চালাতে পারবে। যদি এক্ষেত্রে কোন ভুল ভাবে, ভুল কোম্পানির থেকে ইন্সুরেন্স প্ল্যান কেনা হয় তবে আপনার সাথে দুর্ঘটনা ঘটার পরে আপনার ফ্যামিলি তার প্রাপ্য টাকা নাও পেতে পারে । আর এক্ষেত্রে এই পোস্টটি আপনার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় কারণ এই পোস্টে আমি আজ আপনাদের বিশ্লেষণ করে দেখাবো যে কোন কোম্পানিগুলো থেকে টার্ম ইন্সুরেন্স প্ল্যান নিলে আপনার সাথে হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আপনার ফ্যামিলি অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত থাকবে।

এই পোস্টে ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোর প্যারামিটার গুলো দেখে আপনি নিজে স্থির করবেন আপনার কষ্টার্জিত অর্থ আপনার পরিবারের সুরক্ষার জন্য কোন টার্ম লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোতে লগ্নি করবেন। কারো প্ররোচনায় বা হটকারীতায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন না কারণ আপনার মৃত্যুর পর যদি আপনার পরিবার ইন্সুরেন্স কোম্পানি থেকে ঠিকমতো রিটার্ন না পায় তাহলে পরিবার অর্থনৈতিকভাবে আশঙ্কায় পড়বে। এই পোষ্টের সমস্ত তথ্যগুলো আপনি আইআরডিএআই এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখে নেবেন।

যে পাঁচটি প্যারামিটার এর উপর টার্ম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে তুলনা করা হবে সেগুলি হলঃ 

ক্লেম সেটেলমেন্ট রেশিও

এমাউন্ট সেটেলমেন্ট রেশিও 

এসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট

সলভেন্সি রেশিও

ক্লেম কমপ্লেন রেশিও

উপরোক্ত তথ্যগুলি প্রয়োগ করে ২০২৩ সালে সবচেয়ে ভালো ইন্সুরেন্স কোম্পানি কোন গুলো সেটা জেনে নেব।

প্রথমে আমরা জেনে নেব ক্লেম সেটেলমেন্ট এর ব্যাপারে। 

ধরুন এক্সওয়াইজেড একটা ইন্সুরেন্স কোম্পানি, এই কোম্পানির কাছে ১০০ টি ক্লেম আসলো সেক্ষেত্রে সেই কোম্পানি ৯৮টি ক্লেমের সেটেলমেন্ট কমপ্লিট করে দিল তাহলে সেই কোম্পানির ক্লেম সেটেলমেন্ট রেশিও দাঁড়ালো ৯৮%। যে কোম্পানির ক্লেম সেটেলমেন্ট রেশিও সবচেয়ে বেশি সেই কোম্পানিকে ততো ভালো বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু আজকাল কোম্পানিগুলো বেশ চতুরতা প্রয়োগ করে। ধরুন, কোম্পানির কাছে কোন বড় অ্যামাউন্ট -এর ক্লেম আসলে, সেটাকে কোন না কোন টার্মস এন্ড কন্ডিশন দেখিয়ে হোল্ড করিয়ে দেয়। কিন্তু ছোট ছোট ক্লেমগুলোকে পাস করিয়ে ক্লেম সেটেলমেন্ট রেশিও ঠিক রেখে দিল। দেখা গেল কোন কোম্পানির কাছে ১০০ টি ক্লেম আসলো সেখানে কোম্পানি ৯৮ টি ক্লেম ক্লিয়ার করে দিল সেক্ষেত্রে কোম্পানির ক্লেম সেটলমেন্ট রেশিও ৯৮ শতাংশ কিন্তু দেখা গেল যে দুটো ক্লেমকে কোম্পানি রিজেক্ট করে দিল আর সে দুটো ছিল খুব বড় এমাউন্টের। তাহলে ছোট ছোট ক্লেমগুলোকে কোম্পানি ক্লিয়ার করে দিল আর বড় এমাউন্টের ক্লেম কে কোম্পানি রিজেক্ট করে দিল। তাই আজকের সময়ে কোন কোম্পানিকে সঠিকভাবে বিচার করতে হলে আমাদের দেখতে হবে এমাউন্ট সেটেলমেন্ট রেশিও কি আছে। যেমন ধরুন কোম্পানির কাছে ১০০ কোটি টাকার ক্লেম এসেছে এবং সেই কোম্পানিটি ৯৮ কোটি টাকা ক্লেম সেটেলমেন্ট করে দিয়েছে তাহলে ওই কোম্পানির অ্যামাউন্ট সেটেলমেন্ট রেশিও হল ৯৮ পারসেন্ট। আবার মনে করুন কোন কোম্পানির কাছে ১০০টি ক্লেম এসেছে ১০০ কোটি টাকার তার মধ্যে কোম্পানি ৯৮টি ক্লেমকে পাশ করিয়েছে আর দুটো ক্লেম কে রিজেক্ট করেছে, আর এই দুটি ক্লেম পাঁচ কোটি টাকা করে দশ কোটি টাকার ছিল তাহলে কোম্পানির ক্লেম সেটলমেন্ট রেশিও ৯৮ শতাংশ কিন্তু এমাউন্ট সেটেলমেন্ট ৯০ কোটি টাকা অর্থাৎ অ্যামাউন্ট সেটেলমেন্ট রেশিও ৯০%। 

তাহলে আপনাকে যে জিনিস গুলো দেখতে হবে ক্লেম সেটেলমেন্ট রেশিওর পাশাপাশি ওই কোম্পানির অ্যামাউন্ট সেটেলমেন্ট রেশিও ঠিক আছে কিনা সেটা টার্ম ইন্সুরেন্স পলিসি নেবার আগে অবশ্যই যাচাই করে নিবেন। 

এরপর আপনাকে যে প্যারামেডিট দেখতে হবে সেটা হল এসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট। যে কোম্পানির অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট যত ভালো হবে সেই কোম্পানি তত সক্ষম হবে ক্লেম সেটেল করার ব্যাপারে।

এর পরের যে প্যারামিটারটি দেখা প্রয়োজন সেটা হল সল্ভেন্সি রেশিও। এই সল্ভেন্সি রেশিও মানে কোম্পানির লাইবেলিটি কতটা ও কোম্পানির সম্পত্তি পরিমাণ কতটা । আইআরডিএআই এর নিয়ম অনুযায়ী এই এসেট লাইবিলিটির ১৫০% হতেই হবে। ভবিষ্যতে কোম্পানি কোন সমস্যায় পড়লে অন্তত এতটা এসেট থাকে যাতে ক্লেমগুলো পাস করাতে পারে। যে কোম্পানির যত বেশি সলভেনসি রেশিও থাকবে সেই কোম্পানি লাইফ ইন্সুরেন্সের জন্য ততটাই ভালো।

টার্ম ইন্সুরেন্স পলিসির ক্ষেত্রে ক্লেম কমপ্লেন রেশিও প্যারামিটারটিও অবশ্যই আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ধরুন কোন কম্পানীর কাছে ১০,০০০ ক্লেম রেজিস্টার হল, তার মধ্যে কতজন কমপ্লেন রেজিস্টার করল সেটার রেশিও জানা প্রয়োজন। আইআরডিএআই এর নিয়ম অনুসারে প্রতিটি ইন্সুরেন্স কোম্পানীকে ছয় মাস অন্তর এই তথ্যগুলি প্রকাশ করতে হয়।

নীচে দেওয়া ১৩টি কোম্পানীর চার্টগুলি থেকে বেছে নিতে পারবেন ২০২৩ বেস্ট টার্ম ইন্সুরেন্স কোম্পানী কোনটি ? এই সমস্ত তথ্যগুলি ও আরো কোম্পানীর তথ্য সরকারী ওয়েবসাইড https://irdai.gov.in/ – এ দেখে নিতে পারেন।

কোম্পানীর নামMax
Life
Bharati
AXA
Bajaj
Allianz
Kotak
Life
HDFCCanara
HSBC
LICTATA
AIA
PNB
Metlife
Aditya
Birala
Capital
ICICI
Pru
SBI
Life
Indian
First
Claim
Settlement
Ratio
99.3%99.1%99%98.8%98.7%98.6%98.6%98.5%98.2%98.1%97.9%97%96.9%
Amount
Settlement
Ratio
95.42%94.56%97.90%95.47%90.88%97.80%95.76%87.57%93.92%98.78%87.53%86.22%97.91%
Solvency Ratio3.37%2.4%2.1%
Claim
Settlement
Ratio
99.3%99.1%99%98.8%98.6%98.6%

সুতরাং টার্ম ইনস্যুরেন্স (মেয়াদি বিমা) নিবেশ করার সময় আপনার সেই সব কোম্পানি বেছে নেওয়া ঠিক হবে যাদের দাবি নিষ্পত্তির অনুপাত বেশি। যাহাতে আপনার সাথে হঠাৎ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আপনার পরিবারকে কোনও ধরনের আর্থিক সমস্যার সন্মুখীন হতে হবে না। কিভাবে আপনি একটি ভালো টার্ম ইন্সুরেন্স কোম্পানি কি কি প্যারামিটারে ভালো বলে গণ্য হয় সেটা এই পোষ্টটির মাধ্যমে অবচেতন হলেন।

*এছাড়া আরো পড়ুন- ২৪টি সেরা অনলাইন লোন অ্যাপস সম্পর্কে জানুন

Share This:
Advertisement

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *