Breaking News
Lakshmi Bhandar scheme লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প

Lakshmir Bhandar scheme in Bengali । লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পটি কি এবং কিভাবে আবেদন করবেন ?

Lakshmi Bhandar scheme: ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এবং তখন বাংলার মহিলাদের মাসিক আয় সুনিশ্চিত করার কথা তিনি বলেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি কে বাস্তবায়িত করতে আগামী ১লা সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে চালু হবে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ নামে প্রকল্পটি। গত বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন প্রকল্পটির কথা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন ১লা সেপ্টেম্বর থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পটির সুবিধা পেতে শুরু করবে রাজ্যের ২৫বছর বয়সের পর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে বয়সের মা ও বোনেরা।
তো আসুন এই পোস্টটি থেকে জেনে নেওয়া যাক এই প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য। কারা কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, কত টাকা পাবেন, কিভাবে আবেদন করতে হবে, কারা আবেদন করতে পারবেন না, কবে থেকে পাবেন, ইত্যাদি তথ্য। তো চলুন শুরু করা যাক।

*এছাড়া আরো পড়ুন- কিভাবে বিভিন্ন সংস্থায় লোনের আবেদন করবেন

লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প টি কি

Table of Contents

লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar scheme) এই প্রকল্প টি আসলে কি?

বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বাংলার প্রতিটি পরিবারের গৃহকর্তীদের মাসিক আয় সুনিশ্চিন্ত করতে ৫০০ ও ১০০০ টাকা করে মাসিক দেওয়ার কথা বলেছেন। এবং সেটাই এবার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আকারে চালু করলেন। ১২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে প্রায় ১.৬ কোটি মহিলা সুবিধাটি পাবেন।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে কত টাকা পাওয়া যাবে?

তপশিলি জাতি ও উপজাতির মা-বোনেরা পাবেন মাসিক এক হাজার টাকা আর জেনারেল বা সাধারণ পরিবারের মা-বোনেরা পাবেন মাসিক পাঁচশত টাকা। অর্থাৎ বছরে লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে পাওয়া যাবে ১২০০০ টাকা ও ৬০০০ টাকা।

২০২৩ সালে নতুন লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পে ১০০০ টাকা মাসে সবাই পাবেন, এই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
২০২৩ সালের রাজ্য বাজেটে মাননীয়া অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অবগত করেছেন যে যাঁরা বর্তমানে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের ৫০০ বা ১০০০ টাকা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা ৬০ বছর বয়স পৌঁছে গেলেই মাসিক ১০০০ টাকা করে পেনশন পাবেন৷ এবং সেটা পাওয়া যাবে বার্ধক্য ভাতা হিসেবে, এর জন্য আর নতুন করে আবেদন করতে হবে না । তারমানে ৬০ বছরে বয়সে শেষ হবে না লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা, মাসে মিলবে ১০০০ টাকা!

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প apply কারা আবেদন করতে পারবে?

পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী ২৫ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সী SC/ST/OBC ও জেনারেল কাস্ট এর মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। এবং তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকতে হবে।

* স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকলে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে এর জন্য আবেদন করতে হবে। পরবর্তিতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড তৈরী হলে পঞ্চায়েত অথবা বিডিও অফিসে এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে কারা কারা আবেদন করতে পারবেন না?

যেসব মা বোনেরা সরকারি এবং স্থায়ী চাকরি করছেন, ইনকাম ট্যাক্স যারা দিচ্ছেন, সরকারি পেনশন ভোগীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেনা। তবে যারা ক্যাজুয়ালি কাজ করছেন সেসব কর্মীরা আবেদন করতে পারেন।

কবে থেকে এবং কিভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে?

এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হবে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে এবং সরাসরি মহিলাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা দেওয়া হবে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পে আবেদনের জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে?

  • ২ কপি কালার পাসপোর্ট সাইজ ফটো
  • স্বাস্থ্য সাথী কার্ড
  • আধার কার্ড (নিজের ও বাবা-মায়ের)
  • এস সি / এস টি সার্টিফিকেট যদি থাকে
  • রেশন কার্ড
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার ও পাস বইয়ের প্রথম পেজ এর জেরক্স অথবা ক্যানসেল চেক
  • আধার কার্ড না থকলে অনান্য সরকারী নথি

লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) কিভাবে আবেদন করব? স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকলে কি আবেদন করা যাবে না?

লক্ষীর ভান্ডার এই প্রকল্পের আবেদন অফলাইনেই করতে হবে। আবেদনপত্র পাওয়া যাবে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে। আগস্ট, সেপ্টেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দুয়ারে সরকার বসবে সেখানে গিয়ে আবেদন করতে হবে। চাইলে ফরমটি আপনারা নীচের লিংকটি থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

১৬ই অগাষ্ট ২০২১ অর্থাৎ সোমবার থেকে আবার চালু হতে চলেছে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পটি চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তী ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প আরম্ভ হবে আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২১ থেকে২০২২ সালে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প শুরু হচ্ছে ১৫ই ফেব্রুয়ারী থেকে। এই ক্যাম্প থেকে আপনি ‘লক্ষীর ভান্ডার’-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। সঙ্গে অবশ্যই স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ও উপরে দেওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলি সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের নাম্বারটি প্রয়োজন পড়বে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকলে দুয়ারের সরকার ক্যাম্পে আবেদন করুন। এই কার্ড পেলে লক্ষী ভান্ডারর জন্য আবেদন করতে পারবেন। ‘দুয়ারে সরকার ক্যাম্প’ শেষ হয়ে গেলেও আপনি পরে আপনার পঞ্চায়েত অথবা বিডিও অফিসে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন।

  • লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করার ফর্ম দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে সংগ্রহ করে যথাযথভাবে ফিলাপ করে জমা করতে হবে। নীচে একটি নমুনা ফর্ম সংগ্রহের লিংক দেওয়া হল। ২০২২ সালে নতুন ৪ পৃষ্টার আবেদন পত্রে এই প্রকল্পে আবেদন করতে হবে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নমুনা ফরম pdf ডাউনলোড/Download pdf

এই পোস্ট হইতে আপনারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার‘ (Lakshmi Bhandar scheme) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারলেন। যদি পোস্টটি আপনাদের কোন উপকারে এসে থাকে তাহলে অবশ্যই সবার মধ্যে শেয়ার করবেন।

দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে লক্ষ্মীর ভান্ডার এর জন্য আবেদন পত্র জমা দেবার পর লক্ষীর ভান্ডার status check স্ট্যাটাস চেক কিভাবে করবেন?

লক্ষ্মীর ভান্ডার আবেদনপত্র করার সময় যে মোবাইল নম্বরটি দেওয়া হয়েছে সেই মোবাইল নম্বরে দুটো ম্যাসেজ আসবে প্রথমটি আবেদনপত্রটি জমা হয়েছে সেই সংক্রান্ত মেসেজ আর দ্বিতীয় টি আবেদন অনুমোদন হয়েছে সেই সংক্রান্ত মেসেজ। নিচে নমুনা দেওয়া হল:

1.Your Lakshmir Bhandar application is received with application ID xxxxxxxx . Lakshmir Bhandar, Govt of WB

2.Your Lakshmir Bhandar application with application ID xxxxxxxxx has been sanctioned with beneficiary ID xxxxxxx . Lakshmir Bhandar, Govt of WB

  • অনলাইনে লক্ষ্মীর ভান্ডার status check আবেদন পত্রের স্ট্যাটাস চেক করতে হলে নিচের পদ্ধতি অনুসরন করুন-

১। অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.socialsecurity.wb.gov.in ওপেন অথবা এখানে ক্লিক করুন
২। এবার যে পেজটি ওপেন হবে সেখানে লক্ষীর ভান্ডারে দেওয়া মোবাইল নম্বরটি টাইপ করুন

৩। এরপর জেনারেট ওটিপি (Generat OTP) এই অপশনে ক্লিক করুন
৪। এরপর আপনার মোবাইল নম্বরটি আবার লিখুন
এবং সেন্ড ওটিপি (Send OTP) অপশন এ ক্লিক করুন।

৫। এরপর মোবাইলের ওটিপি সেন্ড হবে তারপর অলরেডি হ্যাভ ওটিপি (Already Have OTP) তে ক্লিক করে ওটিপি নাম্বার টা টাইপ করুন

তাহলেই আবেদনপত্রটি কি অবস্থায় আছে তার স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।

আর যদি নিচের দেওয়া ফটোর মত এরর দেখায়-

তাহলেও চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনি যদি সাম্প্রতিক আপনার লক্ষীর ভান্ডার আবেদনপত্র জমা দিয়ে থাকেন তাহলে সরকারি কর্তৃপক্ষের আপডেটের জন্য আপনাকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিছুদিন পর আবার চেষ্টা করে দেখুন।

লক্ষ্মীর ভান্ডার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আবেদনপত্র জমা পড়েছে সেই সংক্রান্ত মেসেজ রেজিস্টার মোবাইল নাম্বারে আসবে।
প্রচুর সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়ার কারণে মেসেজ পেতে দেরি হতে পারে। আবেদনপত্র যদি ঠিক মত ফিলাপ করে থাকেন সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলি যদি জমা দিয়ে থাকেন ও মোবাইল নম্বরটি লিখতে ভুল না করে থাকেন তাহলে চিন্তার কোন কারণ নেই, মেসেজ পেয়ে যাবেন। আর যদি টেকনিক্যাল কারণে মেসেজ নাও পেয়ে থাকেন তাহলেও চিন্তার কোন কারণ নেই। আর মেসেজ না আসার কারণে নতুন করে আবার আবেদন জমা দেওয়ার দরকার নেই।

**লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা আবেদনকারীদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। অনেক আবেদনকারী টাকা তাদের ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে গেছেন।

ম্যাসেজ না এসে থাকলে বা অন্য যেকোন সাহায্যের জন্য নীচে দেওয়া সরকারী নাম্বারে যোগাযোগ করুন-

লক্ষ্মীর ভান্ডার সরকারী হেল্পলাইন ফোন নং- ০৩৩২২৫০১১৯৩

যারা লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পে টাকা পাচ্ছেন তাদের কি ২০২২-এর নতুন ৪ পাতার ফর্মে আবার আবেদন করতে হবে?

না, যারা এই প্রকল্পে টাকা পাচ্ছেন তাদের ২০২২-এর নতুন ফর্মে আর আবেদনের প্রয়োজন নেই।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি কে চালু করেন?

পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে এই জনদরদী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি সূচনা করেন।

Share This:
Advertisement

Check Also

গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘরের লিস্ট সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন-উত্তর

আবাস প্লাস যোজনায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘরের লিস্ট সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন-উত্তর । Pradhan Mantri Awas Yojana Gramin List AtoZ Information

Pradhan Mantri Awas Yojana Gramin (প্রধান মন্ত্রী গ্রামীন আবাস যোজনা) সংক্ষেপে পিএমএওয়াই(জি) PMAY(G) বা আবাস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *