Breaking News
মহিলাদের জন্য সরকারী ঋণ যোজনা

Mohilader Janyo Govt Loan Project 6। মহিলাদের জন্য সরকারী ঋণ যোজনাগুলির বিবরন । Govt Loan Project Women Business

Mohilader Janyo Govt Loan Project: স্টার্ট অফ ইন্ডিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশের উৎপাদন শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্রে মাত্র ৪ মিলিয়ন মহিলা উদ্যোক্তা এবং ৫০ মিলিয়ন পুরুষ উদ্যোক্তা তাদের ভবিষ্যৎ তৈরীর চেষ্টা করছেন। উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান খুবই হতাশাজনক। বিশেষ করে মহিলাদের ব্যবসায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে।

তবে আশার কথা এটাই যে আজ আমাদের দেশের মহিলারা পরিবারের সমস্ত কাজের পাশাপাশি তারা নিজস্ব ব্যবসা চালাতে আগ্রহী হচ্ছেন ও সফল‌ও হচ্ছেন। কিন্তু তাদের এই নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে, তারা হয় পরিবার থেকে বাধা পাচ্ছে অথবা আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
যে দেশে নারী ও পুরুষ সমান অনুপাতে কোন কাজ সম্পন্ন করে সেই দেশ খুব দ্রুত গতিতে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই ভারত সরকার আমাদের দেশের নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে এসেছে। এছাড়াও আমাদের দেশে ব্যাংক ও বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে যারা মহিলাদের ব্যবসা শুরু করার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। আর এই সুবিধা গ্রহণ করে মহিলারা নিজেদের ক্ষমতায়ন করেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতে সক্ষম হয়েছেন।

আপনি যদি একজন মহিলা হন এবং উৎপাদন অথবা ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে চান তাহলে ভারত সরকারের পরিকল্পনা গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের এই নিবন্ধটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

*আরো পড়ুন – লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প

Mohilader Janyo Govt Loan Project

মহিলাদের জন্য সরকারী ঋণ যোজনা (Mohilader Janyo Govt Loan Project) মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়ক যোজনাগুলি-

১। অন্নপূর্ণা প্রকল্প:

যে সমস্ত মহিলা উদ্যোক্তারা খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয় শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে চান তাদের জন্য ভারত সরকার রাজস্থানের জয়পুর জেলার বমরী নামক গ্রাম থেকে ৩০ শে অক্টোবর ২০১৫ তারিখে এই অন্নপূর্ণা প্রকল্পটি চালু করেছেন। ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের মাধ্যমে সব ধরনের খাদ্য উৎপাদন বা ক্যাটারিং ব্যবসার জন্য মহিলা উদ্যোক্তাদের ৫০,০০০ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়। এই লোনটি পরিশোধের জন্য ৩৬ মাস সময় প্রদান করা হয়ে থাকে। এবং এই প্রকল্পের আওতায় নেওয়া লোন এর ক্ষেত্রে শতকরা সুদের হার বাজার অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ভারত সরকারের এই ঋণ প্রকল্পের সুবিধা নিতে মহিলা উদ্যোক্তাদের একজন গ্যারান্টার এর প্রয়োজন হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলা উদ্যোক্তারা খুব সহজেই খাদ্য শিল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জিনিসপত্র ক্রয় করে তারা তাদের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

২। অরিয়েন্টাল নারী উন্নয়ন প্রকল্প:

যে সকল মহিলা উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসায় ৫১% শেয়ার নিয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কমার্স তাদের ব্যবসা কে আরও উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করে থাকে। এই সুবিধাজনক প্রকল্পের অধীনে ঋণ পেতে মহিলা উদ্যোক্তাদের কোন ধরনের গ্যারান্টার এর এর প্রয়োজন নেই। এবং এই প্রকল্পের অধীনে প্রাপ্ত ঋণ পরিশোধ করার জন্য মোট সাত বছর সময় দেওয়া হয়। এবং সেইসঙ্গে মহিলা উদ্যোক্তাদের এই প্রকল্পের অধীনে প্রাপ্ত ঋণ শোধ করার জন্য প্রায় টু পার্সেন্ট সুদের হারে ছাড় দেয়া হয়ে থাকে।

৩। মুদ্রা যোজনা নারী উদ্যোক্তা:

ক্ষুদ্র মহিলা উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা চালু করেছেন। যে সমস্ত মহিলারা ক্ষুদ্র শিল্প বা ব্যবসা শুরু করতে চান যেমন টিউশন সেন্টার, বিউটি পার্লার, টেলারিং সেন্টার, প্রভৃতির জন্য তারা এই প্রকল্পে সাহায্যে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। এই প্রকল্পের অধীনে ব্যাংকের মাধ্যমে ৫০ হাজার থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পেতে পারে। আর ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো গ্যারান্টারের প্রয়োজন হবে না। এই প্রকল্পের অধীনে উদ্যোক্তাকে একটি ক্রেডিট কার্ডের মত মুদ্রা কার্ড প্রদান করা হয় এবং এই কার্ডটি একটি ক্রেডিট কার্ডের মতই কাজ করে থাকে।
মুদ্রা যোজনা সম্পর্কে আরো জানতে মুদ্রা অফিশিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করুন
এই যোজনায় অনলাইন আবেদন করতে পারেন অথবা টোল ফ্রি ১৮০০ ১৮০ ১১১১ যোগাযোগ করে যেনে নিতে পারেন। অনলাইন আবেদন করতে udyamiMitra অফিশিয়াল সাইডে প্রবেশ করুন

মহিলাদের জন্য সরকারী ঋণ যোজনা অন্তর্গত মুদ্রা যোজনা প্রকল্পে আবার তিন ধরনের প্রকল্প রয়েছে-

শিশু
উদ্যোক্তাকে নতুন ব্যবসা শুরু করার জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়। বার্ষিক ১২% হারে সুদ দিতে হয় ও পাঁচ বছরের মধ্যে পরিশোধ যোগ্য।

কিশোর
এই বিভাগের অধীনে সুবিধাভোগী মহিলাদের ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষত: এটি চলমান ব্যবসাকে বাড়াতে বা ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ঋণ প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে সুদের হার উদ্যোক্তার ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত করা হয়।

তরুণ
এই স্কিমের আওতায় মহিলা উদ্যোক্তাদের ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি করার জন্য ঋণ প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রেও সুদের হার উদ্যোক্তার ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত করা হয়।

৪। মহিলা উদ্যম নিধি যোজনা:

যেসব মহিলারা ক্ষুদ্র উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটু বড় ব্যবসা করতে চান যেমন বিউটি পার্লার, ডে কেয়ার সেন্টার, অটো রিস্কা, টুহুইলার বা গাড়ি, সে ক্ষেত্রে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ভারতের ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন ব্যাংক এইসব মহিলা উদ্যোক্তাদের উদ্যম নিধি যোজনার মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দশ বছরের মেয়াদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে থাকে।

৫। স্ত্রী শক্তি যোজনা:

এই যোজনাটি সেইসব মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য যাদের নিজস্ব ব্যবসায় ৫০ শতাংশেরও বেশি অংশীদারিত্ব রয়েছে। ছোট উদ্যোক্তারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারে। এমএসএমইতে নিবন্ধিত সংস্থাগুলো ৫০ হাজার থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারে। আর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এর ক্ষেত্রে কোন গ্যারান্টার এর প্রয়োজন হয় না।
স্ত্রী শক্তি যোজনা আওতায় যে সকল উদ্যোগী মহিলারা কুড়ি লক্ষ টাকার বেশি ব্যবসায়ীক ঋন নিয়ে থাকেন তাঁদের এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ০.৫৮ পারসেন্ট সুদের হারে ছাড় দেওয়া হয়। এর বাইরে এই প্রকল্পের অধীনে আরো ব্যবসায় ঋণ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে।
ভারত সরকার এসবিআই ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে এই প্রকল্পের ঋণ দিয়ে থাকে, তাই এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

৬। উদ্যগিনী যোজনা:

এই প্রকল্পের অধীনে উদ্যোগী মহিলারা যারা কৃষি অথবা ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজ সেক্টরে তাদের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছেন সেক্ষেত্রে তাদের ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। এবং উদ্যোক্তার বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এবং পারিবারিক বাৎসরিক আয় ৪৫,০০০ টাকা সেই সমস্ত উদ্যোগী মহিলাদের এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাহায্য প্রদানের কথা বলা হয়েছে। এসসি/এসটি শ্রেণীর বিধবা বা বিকলাঙ্গ মহিলারা এই স্কিমের অধীনে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারে এবং এই ধরনের মহিলা উদ্যোক্তাদের ৩০ পার্সেন্ট পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদান করা হয়।

৭। প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনা:

মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও স্বকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনা’ প্রকল্পটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে এই প্রকল্পটি প্রথম চালু করা হয়েছিল। এই ঋণ প্রকল্পটি শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নয় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সি যুবকদের জন্য প্রযোজ্য। সরকার প্রবর্তিত এই অসাধারণ প্রকল্পটি পরিষেবা বাণিজ্য উৎপাদন খাতে শুরু করা উদ্যোগগুলিকে ভবিষ্যতে উন্নতি করতে সহায়তা করে। 

প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনা সুবিধাগুলি:
এই প্রকল্পে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৭ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে
ঋণ গ্রহিতাকে তাদের ব্যবসায় ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারে তার জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে:
মহিলা আবেদনকারী কে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণী পাস হতে হবে।
আবেদনকারীকে কমপক্ষে তিন বছর বা তারও বেশি সময় যেন তাদের নিজের এলাকায় বসবাস করতে হবে।
এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য কোন জামানতের প্রয়োজন নেই।
পরিবারের আয় ন্যূনতম ৪০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা হলেই এই ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে।
অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খোলাপী থাকা যাবে না।
আবেদনকারীকে অবশ্যই বেকার হতে হবে।

৮। দেনা শক্তি প্রকল্প:

দেনা শক্তি প্রকল্প হলো সরকারি ক্ষেত্রে দেনা ব্যাংকের অধীনে মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য প্রদেয় একটি ব্যবসায়ীক ঋণ প্রকল্প। ভারতীয় মহিলা উদ্যোক্তারা যাতে তাদের ব্যবসাকে নতুন দিগন্তে প্রসারিত করতে পারে তার জন্য আর্থিক সহায়তা সুনিশ্চিত করা। এই ঋণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হল বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয় নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

দেনা শক্তি ঋণ প্রকল্পের সুবিধা গুলি:
মহিলা উদ্যোক্তাদের সুদের হারে ০.২৫ শতাংশ ছাড়।
ঋণ পরিষদের মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
পরিচয় পত্র- প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার আইডি ইত্যাদি।
ঠিকানার প্রমাণ- আধার কার্ড, বৈধ পাসপোর্ট, ইলেকট্রিক বিল, সম্পত্তির কর বিল ইত্যাদি।
ব্যাংক একাউন্টের বিবরণ।
পাসপোর্ট সাইজ ফটো।

আবেদন পদ্ধতি:
এই প্রকল্পে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করার জন্য আবেদনকারী কে তার নিকটস্থ দেনা ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণসহ জমা দিতে হবে। 

আপনারা এই পোস্ট হইতে মহিলাদের জন্য সরকারী ঋণ যোজনা গুলি (মহিলা লোন) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারলেন। ভারত সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে সকল মহিলাদের প্রয়োজনীয় ব্যবসায়ীক ঋণ প্রদান করে, শিল্পক্ষেত্রে মহিলাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। আর এই সমস্ত স্কিমের মাধ্যমেই আজ ভারতের মহিলারা শিল্প বা ব্যবসার ক্ষেত্রে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন ও নিজেদেরকে ক্ষমতায়ন ও উন্নতশীল করে তুলেছেন। এই পোষ্টটি দ্বারা যদি আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু-বান্ধবদের শেয়ার করুন।

Share This:
Advertisement

Check Also

গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘরের লিস্ট সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন-উত্তর

আবাস প্লাস যোজনায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘরের লিস্ট সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন-উত্তর । Pradhan Mantri Awas Yojana Gramin List AtoZ Information

Pradhan Mantri Awas Yojana Gramin (প্রধান মন্ত্রী গ্রামীন আবাস যোজনা) সংক্ষেপে পিএমএওয়াই(জি) PMAY(G) বা আবাস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *